হাড় ব্যথার নিরাময়

চিকিৎসার শুরুতে ব্যথা সম্পর্কে জ্ঞ্যাত হতে হবে যে, কোন হাড়ে ব্যথার উৎপত্তি – বাহু, নিম্নবাহু, হাত, মেরুদন্ড, লেগ বা গোড়ালির হাড় । আরও জানতে হবে প্রথম কখন ব্যথা শুরু হয়? কতদিন ধরে ব্যথা ? ব্যথা কি বেড়ে যাচ্ছে ? ব্যথা ছাড়া অন্যান্য উপসর্গ কি ? সঠিক কারণ অনুসন্ধানপূর্বক প্রয়োজনীয় চিকিৎসা প্রদান করলে হাড় ব্যথা নিরাময়ে সুফল পাওয়া যাবে । ব্যথার কারণ নির্ণয়ে শারীরিক পরীক্ষা ছাড়াও রক্তের বিভিন্ন পরীক্ষা, প্রেসাব পরীক্ষা, অস্থিমজ্জা পরীক্ষা, এক্স -রে, বি এম ডি, বোন স্ক্যান, সি টি স্ক্যান এবং এম আর আই করতে হবে । কায়িক পরিশ্রম করলে হাড় মজবুত ও শক্তিশালী হয় । ফলে হাড়ে ব্যথা কম হয় । উপযুক্ত ব্যায়াম যেমন নিয়মিত হাঁটা, জগিং, সিড়ি দিয়ে উঠা-নামা করা এবং ওজন বহন করা হাড়কে মজবুত ও শক্তিশালী করে। কিশোর বয়সে কায়িক পরিশ্রম করলে হাড়ের পরিমান বেড়ে যায় এবং হাড় মোটা, মজবুত ও শক্তিশালী হয় । ফলে বৃদ্ধ বয়সে হাড় ব্যথা ও ভাঙা কম হয় । সুষম খাদ্য এবং কিশোর বয়সে ১৩০০ মিলি গ্রাম, ৫০ বৎসর পর্যন্ত ১০০০ মিলি গ্রাম এবং ৫০ বৎসরের উর্ধ্বে ১২০০ মিলি গ্রাম ক্যালসিয়াম দৈনিক সেবন করা উচিত। ধুমপান ও মদপান থেকে বিরত থাকা উচিত। পর্যাপ্ত পরিমান ক্যালসিয়াম এবং ভিটামিন সি ও ডি সেবনে হাড় ব্যথা প্রতিরোধ ও লাঘব হয় । হাড়ের বিভিন্ন উপাদানের ক্ষয় পূরনের জন্য পরিমিত ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি ও বিসফোসফোনেট (এলেনড্রোনেট, ইটিড্রোনেট ও রাইসোড্রোনেট) সেবন, হোরমোন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি এবং রেলোকেিফন ও ক্যালসিটোনিন ইনজেকশন পুশের প্রয়োজন হতে পারে। ব্যথার ওষুধ ছাড়াও প্রাথমিক কারণের জন্য কেমোথেরাপি, রেডিওথেরাপি, শল্য ও আর্থ্রােস্কোপিক চিকিৎসা এবং অন্যান্য ওষুধ গ্রহন করতে হবে ।

One comment

Leave a Reply to A WordPress Commenter Cancel reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*
*

X
X